শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাব দিতে জবি রাস্তায়!
অনলাইন ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উত্তাল আন্দোলন চলছে রাজধানীর কাকরাইলে। এ আন্দোলনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন চলবে।
কাকরাইল মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি এই ঘোষণা দেন। ড. রইস উদ্দিন বলেন, “আমরা এসেছি ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। অথচ আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে। এটি ন্যক্কারজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা ষড়যন্ত্রে আসিনি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এসেছি। দাবি আদায় ছাড়া ঘরে ফিরছি না। এখন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “যদি আমাদের এখান থেকে জোরপূর্বক সরানোর চেষ্টা করা হয়, তার ফল ভালো হবে না। শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে কেউ আঘাত করলে আমরা তা মেনে নেব না।”
এই সময় কাকরাইলজুড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের স্লোগানে: “আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়”, “বাজেট কাটছাঁট চলবে না”, “হামলার বিচার চাই”—এমন অসংখ্য স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচিতে ক্লান্ত হলেও কোনো শিক্ষার্থী পিছু হটেনি। রাস্তায় রাত কাটিয়েও তারা সকালের আলোয় আবার জেগে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—১) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু, ২) প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, ৩) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও দ্রুত বাস্তবায়ন, এবং ৪) ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু করেন। লং মার্চটি গুলিস্তান ও মৎস্য ভবন পেরিয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এরপর লাঠিচার্জে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
রাতের বেলায় উপদেষ্টা মাহফুজ ব্রিফ করতে আসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাহফুজের বক্তব্যে অসন্তোষ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্দেশ করে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বক্তৃতার মাঝখানে একজন আন্দোলনকারী তাকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ করলে মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্ত নেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কাকরাইল মসজিদের সামনে অব্যাহত থাকবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি।
গণমাধ্যম কে দেওয়া এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারীরা বলেন, “এই আন্দোলন কারো বিরুদ্ধে নয়, এটি বঞ্চনার বিরুদ্ধে। জবির ভবিষ্যৎ আজ হুমকির মুখে। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত একচুলও নড়বো না।”